আমার ল্যাপটপে ভূত আছে এ আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, এখন হাতেনাতে টের পাচ্ছি, যখনই কোনো প্রবলেম নিয়ে সার্ভিস সেন্টারে যাওয়া হয়, অমনি টপাটপ ঠিকঠাক চলতে থাকে, সত্যি বলছি তিতিবিরক্তিকর। স্ক্রীন খারাপ হয়ে গেছে, চলছে না, এই অসুবিধেয় নাজেহাল হয়ে পরেছিলাম। দীর্ঘ এক মাস যাবৎ এই অত্যাচার সহ্য করে আজ শহরের আরেকপ্রান্তের কারখানায় পাঠানো হল, কি লাভ? এখন ঠিকঠাক চলছে। ভূত বোধহয় জীবনের সকল প্রান্তে সকল খানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে – আমাদের বোধে, আমাদের চেতনায়, আমাদের দুনিয়া দর্শনে, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কে, আমাদের আশে, আমাদের পাশে – যত্র তত্র সর্বত্র। তাই বোধহয় এ জগতে স্থিতির বড় অভাব, এক চঞ্চলা ভূত বোধহয় জাঁকড়ে ধরেছে আমাদের। বা হয়ত খালি আমাকে।
আজও আমি বসে আছি সেই পাঁচ নম্বর কোর্টরুমে। সেই জাস্টিস কাপাডিয়া আর রেড্ডি। সেই এক কর সংক্রান্ত ব্যাপার। আজ যে মামলাটা চলছে তার খুব কাছাকাছি একটি মামলায় এর আগে একটি রায় দিয়েছেন এই একই জাস্টিস কাপাডিয়া। সুতরাং সহজ ব্যাপার। তবু ওই ভূত আজ ওনাকেও ধরেছে বোধহয়। কিছুতেই মানবেন না ওই আগের রায় এই মামলাতেও লাগবে। তাই চলছে তর্ক বিতর্ক। অস্থিতির ভূত বেশ ভালোই নাচাচ্ছে। আর এই সেকশন সাব-সেকশনের ধাক্কায় আমরা সবাই বেশ নাচছি।
আমাদের নাচ এই বাক্বিতন্ডার আসনের বাইরেও অনেক সুদূর অবধি বিস্তৃত। স্থিতির বড় অভাব, যে সম্পর্কটাকে কাল ভেবেছিলাম আঁকড়ে ধরার মূল, আজ সেটা বড় লঘু। লঘু যে আমি করেছি তা নয়; অমুক ভার্সেস তমুকের কেসে, সবসময় যে অমুক দোষী এমন নয়। তমুক যদি মেনে নিতে না চায় এই সম্পর্কের বাঁধনটাকে তবে অমুকেরও বোধহয় কিছু করার থাকে না। কে বা আর কাহাতক আহাম্মকের ন্যায় বসে থাকে! অনেক সময় সে বসে থাকতে চাইলেও, তাকে উঠে যেতে বলা হয়, অগত্যা সে উঠে পরে। স্থিতির কথা আর তার ভাবা হয় না। বহু ক্ষেত্রে মন ভীষন চায় ওই পূর্বতন স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে। তাই ছেড়ে দেওয়া আর হয় না। মনের কোণে কোথাও ওই ভূতের ওঝা বসে নীরবে মন্ত্র পড়েই যায়। তাই মেঘের পিছনে ঢাকা চাঁদের মত অপেক্ষা যে মেঘ তো ক্ষণকালের, তারপর, ছিঁড়ে যাবে কালো পর্দাটা, আবার আলো ফুটবে। সম্পর্কের তাই বোধহয় কোনো কারণ হয় না, কোনো নিয়ম হয় না। শুধু আশা আকাঙ্খার দোলায়, হৃদয়ের ওপর হাত ঠেকিয়ে যা ঠিক মনে তাকেই ঠিক ঘোষণা করা।
ঠিক একানেই বোধহয় সব ভৌতিকতার উত্তর লুকিয়ে। নিয়ম নেই, নিষেধ নেই, কারন নেই, বারন নেই, তাই কাছে আসার সম্পর্কের নাম দেওয়ার যেমন কোনো দিশা নেই; ছড়িয়ে ছিটিয়ে টুকরো হয়ে যাওয়ারও তাই কোনো মানা নেই। মুক্ত ডানার পাখনায় ভর করে ভেসে যাওয়াই তাই বোধহয় সম্পর্কের অপর পিঠ। অমুক বা তমুক কেউই তাই বোধহয় দোষী নয়, কারুরই তাই বোধহয় কোথাও বেঁধে থাকার বা বেঁধে রাখার দায় নেই। সম্পর্ক মানে বোধহয় তাই ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে অরাজকতার রূপ বা রূপান্তর বা হয়ত ব্যক্তি মননে তার ছাপ। এ একান্ত ভাবেই ব্যাক্তিগত এবং মানসিক অরাজকতা। কারণ এর উৎস মনের গভীরে, একান্ত ভাবেই সেখানে যেখান থেকে বাঁধা কারণ, বারন না মেনে ভালো লাগা বা না লাগা জন্ম নেয়। সব থেকে বড় বিষয়, এই মানসিক প্রতিবিম্বগুলো বেশীর ভাগ সময়েই ব্যক্তির দেহ বা মন ছাড়িয়ে তার বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পায় না, কারণ মানুষের সম্পর্কগুলো অই মনের ভিতরেই হিসাব নিকাশ কষে।
তাই সদ্অর্থেই এ এক ভূত যা মানুষের ভিতরে বসেই নেচে চলেছে নিশিদিন – যোগ বিয়োগ, গুণ ভাগের নিয়ম না মেনেই করে চলেছে অঙ্ক, আর আপাত ভাবে বিগড়ে থেকেও কখনওই তার ব্যাধি প্রকাশ পেতে দেয়না, ঠিক আমার ল্যাপটপের মত।।
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetuer adipiscing elit.Praesent aliquam, justo convallis luctus rutrum.Phasellus tristique purus a augue condimentum adipiscing.